 |
| ছবি: সংগৃহীত |
গাড়ির ফুয়েল নেওয়ার সময় ফিলিং স্টেশনের ডিজিটাল ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকেন গ্রাহকরা। মিটারে ৫ লিটার, ১০ লিটার কিংবা নির্দিষ্ট টাকার হিসেব মিলতেই ধরে নেওয়া হয়, ঠিক পরিমাণ জ্বালানিই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসটিআইয়ের অভিযানে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার বানিয়ে করা হচ্ছে ভয়াবহ জালিয়াতি। ডিজিটাল মিটারে সবকিছু স্বাভাবিক দেখিয়েও বাস্তবে কম তেল দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। সূক্ষ্ম এই চুরির প্রমাণ মেলায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছে জরিমানা।
বিএসটিআই কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক ডিসপেন্সিং ইউনিট মূলত সেন্সর, পালস জেনারেটর, কন্ট্রোল সার্কিট এবং সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কাজ করে। অসাধু চক্র এই হিসাব প্রক্রিয়াতেই কারচুপি করছে।
মেশিনের মাদারবোর্ডে অতিরিক্ত ডেসিমেল চাপ সার্কিট বসিয়ে সফটওয়্যার এমনভাবেই কনফিগার করা হয়, যাতে ডিসপ্লেতে সঠিক হিসাব দেখালেও বাস্তবে প্রতি লিটারে ২০ থেকে ৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত তেল কম যায়।
এছাড়া ক্যালিব্রেশন সফটওয়্যারের পালস রেশিও পরিবর্তন করে কিংবা রিমোট কন্ট্রোল ও গোপন সুইচের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হচ্ছে। অভিযানের সময় তারা মেশিন স্বাভাবিক রাখলেও ব্যস্ত সময়ে চালু করে কারচুপির মোড। বিএসটিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, ডিজিটাল মেশিনের ভেতরে এই সফটওয়্যার কারচুপি সাধারণ চোখ কিংবা বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা অসম্ভব।
বিএসটিআইয়ের নিরাপত্তা সিল থাকলেও সফটওয়্যার সেটিংসেই করা হয় জালিয়াতি। তারা মনে করেন, এই ডিজিটাল চুরি পুরোপুরি ঠেকাতে ডিসপেন্সিং ইউনিটের সফটওয়্যারগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে বিএসটিআইকে।